সাংবাদিকরা মানুষের কথা তুলে ধরতে গিয়ে পেশাগত দায়িত্বে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। ব্যক্তিগত সংকট কিংবা অসুস্থতাও অনেক সময় তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তবে সংকটের সময়ে সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সাংবাদিকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন।
এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সচিবালয় বিটের দুই অসুস্থ সাংবাদিকের চিকিৎসার জন্য এবং প্রয়াত দুই সাংবাদিকের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবিজি ফাউন্ডেশন। শুক্রবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিয়াম মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় এ সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে চার সাংবাদিকের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রয়াত সাংবাদিক হারুন অর রশিদ তালুকদার ও হুমায়ুন কবির খোকনের পরিবারের জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে এবং অসুস্থ সাংবাদিক রাকিব উদ্দিন ও আমানুর রহমানের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে এবিজি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিত্ব করেন মো. ইমরুল হাসান, ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব এএন্ডএফ, ইডাব্লিউপিডি এবং বিসিডিএল ও পরিচালক, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি; এম. জেড. হোসেন আরজু, হেড অব ডিভিশন (আর অ্যান্ড ডি), এবিজি এবং মো. শাজেদুল করিম, জেনারেল ম্যানেজার, জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং, এবিজি ফাউন্ডেশন।
দৈনিক ইনকিলাবের প্রয়াত সাংবাদিক হারুন অর রশিদ তালুকদারের পরিবারের পক্ষে পাঁচ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন তার ছেলে মো. তৌহিদ হারুন। তিনি জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। বাবার অসুস্থতার সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তৌহিদ হারুন বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ ছিলেন। আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আশা করবো তারা এইভাবে সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।’
দৈনিক আমাদের সময়ের প্রধান প্রতিবেদক ও প্রয়াত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকনের পরিবারের পক্ষে চেক গ্রহণ করেন তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা রিনা। তিনি বলেন, কোভিডে স্বামীর মৃত্যুর সময়ও বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আবারও এই আর্থিক সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সময়ে এসেছে।
শারমিন সুলতানা রিনা বলেন, ‘আমার স্বামী কোভিডে মারা গেছেন। সেই সময়েও বসুন্ধরা গ্রুপ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আজকে আবার যখন আমাকে এই চেকটি দিলেন, এটা আমাদের জন্য ভীষণ প্রয়োজন ছিল। আমাদের জীবনটা এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন। এই মুহূর্তে এটা আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া।’
দৈনিক সংবাদের অসুস্থ সাংবাদিক রাকিব উদ্দিনের পক্ষে পাঁচ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন তার স্ত্রী নাসরিন জাহান। তিনি স্বামীর চিকিৎসায় সহায়তার জন্য এবিজি ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নাসরিন জাহান বলেন, ‘এবিজি কে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার অসুস্থ স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য।’
এ ছাড়া দৈনিক নয়া দিগন্তের সাংবাদিক আমানুর রহমানের চিকিৎসার জন্যও পাঁচ লাখ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়। নিজের হাতে চেক গ্রহণ করে এবিজি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।
আমানুর রহমান বলেন, ‘আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আল্লাহ যেন তাদের এই প্রয়াস ও ডেডিকেশনকে কবুল করেন।’
তিনি অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাংবাদিক পরিবারের পক্ষ থেকে ফাউন্ডেশনের প্রতি ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশনকে পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে এবিজির পক্ষ থেকে মো. ইমরুল হাসান বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বাস্তব চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরেন। তাদের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ সমাজ নির্মাণের প্রত্যাশা করা হয়। কিন্তু মানুষের কল্যাণ ও সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে লেখার সময় একজন সাংবাদিক নিজেই যদি আর্থিক সংকটে থাকেন, তাহলে তার কাজেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা স্বচ্ছ সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন। তাদের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখি। কিন্তু সেই স্বপ্নের কথা লিখতে গিয়ে যখন কলম চালানো মানুষটি আর্থিক অনটনের মধ্যে থাকেন, তখন অনেক সময় মনের ভাবটা সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরতে পারেন না। এ জন্য সাংবাদিকদের আর্থিক সচ্ছলতা প্রয়োজন।’
ইমরুল হাসান আরও বলেন, এবিজি সবসময় সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে। পাশাপাশি এবিজি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নানা ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের পেছনে এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমূলক কাজকে উৎসাহিত করতে বিএসআরএফ ও এবিজি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড আয়োজনের কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ইতিবাচক প্রতিবেদনকে উৎসাহিত করাই হবে এ পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য। প্রস্তাবিত এ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে স্পন্সর হিসেবে থাকবে এবিজি ফাউন্ডেশন।
এবিজি ফাউন্ডেশন সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতি শুক্রবার এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও আর্থিক সংকটে থাকা মানুষকে সহায়তা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বৃত্তি দেওয়ার কার্যক্রমও পরিচালনা করছে এবিজি ফাউন্ডেশন।
SOURCE : Report 71Hospital for Covid-19 Patients at Bashundhara’s ICCB to Open Soon
মীরসরাই এবং কেরানীগঞ্জে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলো বসুন্ধরা গ্রুপ
বসুন্ধরা গ্রুপ কাপ গলফ টুর্নামেন্ট ২০১৩ গলফারদের উৎসব
Dazzling Finish of Bashundhara Cup Golf Tournament 2013
Bashundhara Group Exporting Tissue to 16 Countries
Bashundhara Group Chairman Stands by Ailing Girl
Bashundhara Group Chairman Ahmed Akbar Sobhan Stands by Sick Tasmia
India Willing Partner in Bangladesh Development
Bashundhara Group Chairman Stands by Ailing Boy Siraj
Ceremony of Bashundhara Cup Golf