বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। দেশের নদীজ বালু থেকে উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামাল তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সরকার একটি বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র— ‘স্যান্ড প্রসেসিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব করেছে।
কেন্দ্রটি হবে দেশের সেমিকন্ডাক্টর উপকরণের ইকোসিস্টেম তৈরির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সোহেল রানা একটি পর্যালোচনামূলক গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।
গবেষণাপত্র অনুসারে, প্রস্তাবিত স্যান্ড প্রসেসিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারটি শুধু একটি পরীক্ষাগার নয়। এটি হবে উন্নত খনিজ প্রক্রিয়াকরণের একটি পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো।
এতে থাকবে পাইলট-স্কেল বেনিফিসিয়েশন, রাসায়নিক বিশুদ্ধকরণ এবং ম্যাটেরিয়ালস ক্যারেক্টারাইজেশন বা উপাদান বিশ্লেষণের আধুনিক সুবিধা। কেন্দ্রের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, পদ্মা এবং তিস্তা নদীর বালু থেকে উচ্চ-বিশুদ্ধতার সিলিকা এবং মেটালার্জিক্যাল-গ্রেড সিলিকন উৎপাদনের প্রকৃত সম্ভাব্যতা ও বাণিজ্যিক উপযোগিতা যাচাই করা।
সেখানে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের নদীজ বালুতে ৯৯.৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সিলিকা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় আল্ট্রা-ট্রেস বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে যে বিশেষায়িত গবেষণার প্রয়োজন, এসপিআরসি সেই অভাব পূরণ করবে।
গবেষণা কেন্দ্রটি বাংলাদেশের মেধাবী প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন কর্মক্ষেত্র ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে।
গবেষক ড. মো. সোহেল রানার মতে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিকাশে দক্ষ জনবল ও উদ্ভাবন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এসপিআরসি-র মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি হবে, যেখানে তরুণ প্রকৌশলীরা উচ্চ-বিশুদ্ধতার খনিজ বিশ্লেষণ, ভিএলএসআই ডিজাইন এবং খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তিতে হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ পাবেন।
এর মাধ্যমে দেশেই উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রকৌশলী তৈরি করা সম্ভব হবে। যা বর্তমানে বাংলাদেশের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি কেবল কর্মসংস্থানই তৈরি করবে না বরং মেধা পাচার রোধ করে দেশের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবদান রাখবে।
কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান কাজ হবে উন্নত বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্টদের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় যুক্ত হওয়া এবং তাদের অত্যাধুনিক রিফাইনিং প্রযুক্তি বাংলাদেশে নিয়ে আসা। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে এইকেন্দ্রটি ধাপে ধাপে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এটি দেশীয় কাঁচামালকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ চেইনে অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করবে।
গবেষণাপত্রের লেখক এবং বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভূতত্ত্ব) ড. মো. সোহেল রানা বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে একটি রূপান্তরকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে হিমালয় থেকে আসা বিপুল পরিমাণ কোয়ার্টজ সমৃদ্ধ বালু রয়েছে, যা একটি কৌশলগত সম্পদ। তবে এ সম্পদকে চিপ তৈরির উপযোগী করতে হলে এসপিআরসি-র মতো বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্রের কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘সরাসরি চিপ ফ্যাব্রিকেশনে যাওয়া অনেক বেশি মূলধন নিবিড় ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরা সুপারিশ করেছি প্রথম ধাপে এসপিআরসি স্থাপনের মাধ্যমে কাঁচামালের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং সিলিকাভিত্তিক ডাউনস্ট্রিম শিল্প যেমন অপটিক্যাল ফাইবার ও স্পেশালিটি গ্লাস উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করা। এটি আমাদের প্রকৌশলীদের গবেষণার ভিত্তি মজবুত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সেমিকন্ডাক্টর হাবে পরিণত করবে।’
জাতীয় রোডম্যাপ অনুযায়ী, এসপিআরসি স্থাপনের মাধ্যমে প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যেই খনিজ মানচিত্রায়ন ও পাইলট ফেসিলিটি পরিচালনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে উচ্চ বিনিয়োগ এবং উন্নত প্রযুক্তির অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
SOURCE : Daily Sun বাংলাHospital for Covid-19 Patients at Bashundhara’s ICCB to Open Soon
মীরসরাই এবং কেরানীগঞ্জে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলো বসুন্ধরা গ্রুপ
বসুন্ধরা গ্রুপ কাপ গলফ টুর্নামেন্ট ২০১৩ গলফারদের উৎসব
Dazzling Finish of Bashundhara Cup Golf Tournament 2013
Bashundhara Group Exporting Tissue to 16 Countries
Bashundhara Group Chairman Stands by Ailing Girl
Bashundhara Group Chairman Ahmed Akbar Sobhan Stands by Sick Tasmia
India Willing Partner in Bangladesh Development
Bashundhara Group Chairman Stands by Ailing Boy Siraj
Ceremony of Bashundhara Cup Golf