২০৫০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর হাব হবে বাংলাদেশ। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, পদ্মা এবং তিস্তা নদীকে প্রচুর পরিমাণে কোয়ার্টজ সমৃদ্ধ বালু রয়েছে।
এ সম্পদগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে উপকরণের অন্যতম সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সোহেল রানা একটি পর্যালোচনামূলক গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফাইভজি যোগাযোগ এবং বৈদ্যুতিক যানের মতো প্রযুক্তির মূল চালিকাশক্তি হলো সেমিকন্ডাক্টর চিপ। এ ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বাংলাদেশ সুযোগটি কাজে লাগারে পারে।
গবেষণায় বলা হয়, হিমালয় থেকে নেমে আসা বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কোয়ার্টজ সমৃদ্ধ বালু জমা হয়। এ কোয়ার্টজই হলো সেমিকন্ডাক্টর তৈরির প্রাথমিক কাঁচামাল।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাধারণ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এ বালু থেকে ৯৯.৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সিলিকা উৎপাদন সম্ভব, যা কাচশিল্পের জন্য উপযোগী। তবে সেমিকন্ডাক্টর গ্রেডের বিশুদ্ধতা (৯৯.৯৯ শতাংশ বা ৯এন) অর্জনের জন্য উন্নত প্রযুক্তির রিফাইনিং ও গভীরতর ভূ-রাসায়নিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা এখনই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করে চিপ তৈরির কারখানা (ফ্যাব) স্থাপনের বদলে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের উচিত প্রথমে হাই-পিউরিটি সিলিকা উৎপাদন, আইসি ডিজাইন, এবং সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং খাতে মনোনিবেশ করা। এতে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমবে এবং বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
গবেষণাপত্রে দেশকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে স্বাবলম্বী করতে পাঁচ ধাপের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম ধাপে দেশব্যাপী কোয়ার্টজ অনুসন্ধান কর্মসূচি এবং একটি বিশেষায়িত ‘স্যান্ড প্রসেসিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার স্থাপন।
দ্বিতীয় ধাপে বাণিজ্যিকভাবে উচ্চ-বিশুদ্ধতার সিলিকা উৎপাদন এবং আইসি ডিজাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি। তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে নিজস্ব চিপ তৈরির কারখানা বা পাইলট ওয়েফার ফ্যাব্রিকেশন শুরু এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে যুক্ত হওয়া এবং পঞ্চম ধাপে উদ্ভাবন-চালিত উচ্চ-প্রযুক্তি অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিশ্ব নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উন্নত খনিজ প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোর অভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা। তবে বাংলাদেশের শক্তি হলো তার বিপুল তরুণ প্রকৌশলী সমাজ এবং প্রতিযোগিতামূলক শ্রম খরচ। সরকার যদি সঠিক কর প্রণোদনা, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং টেকসই খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতি গ্রহণ করে, তবে এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।
ড. মো. সোহেল রানার মতে, সেমিকন্ডাক্টর শুধু একটি বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি এখন কৌশলগত জাতীয় সম্পদ। বাংলাদেশ যদি তার ভৌগোলিক সম্পদের (নদীজ বালু) সঙ্গে মেধার সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারে, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটি বিশ্ব চিপ বিপ্লবের অন্যতম অংশীদার হয়ে উঠবে, যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে খনিজ সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ একটি জ্ঞান-ভিত্তিক উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
SOURCE : Banglanews24Hospital for Covid-19 Patients at Bashundhara’s ICCB to Open Soon
মীরসরাই এবং কেরানীগঞ্জে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলো বসুন্ধরা গ্রুপ
বসুন্ধরা গ্রুপ কাপ গলফ টুর্নামেন্ট ২০১৩ গলফারদের উৎসব
Dazzling Finish of Bashundhara Cup Golf Tournament 2013
Bashundhara Group Exporting Tissue to 16 Countries
Bashundhara Group Chairman Stands by Ailing Girl
Bashundhara Group Chairman Ahmed Akbar Sobhan Stands by Sick Tasmia
India Willing Partner in Bangladesh Development
Bashundhara Group Chairman Stands by Ailing Boy Siraj
Ceremony of Bashundhara Cup Golf