বর্ণিল আয়োজনে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করেছে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় কফি চেইন ‘ক্যাফে অ্যামাজন’। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে রাজধানী বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ক্যাফে অ্যামাজনের ‘ফ্ল্যাগশিপ স্টোর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব হয়।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে থাইল্যান্ডের পিটিটি অয়েল অ্যান্ড রিটেইল বিজনেস পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের (পিটিটি ওআর) অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশে কার্যক্রম শুরু করা এ ব্র্যান্ডকে ঘিরে নতুন বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর, তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান, ঢাকায় অবস্থিত থাইল্যান্ড দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত থিতিফর্ন চিরাছাওয়াদি, দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক) অনুসর্ন কাউতিপবিত্তায়া, পিটিটিটি ওআর ও ক্যাফে অ্যামাজন ইন্টারন্যাশনালের লাইফস্টাইল বিজনেসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রাইপিট প্রেমনানি ও হাঙ্গেরিয়ান থাই চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট পোজ্জানা পানিয়াংভাইত।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ক্যাফে অ্যামাজনের বাংলাদেশে প্রবেশ দুই দেশের এই সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কফি সংস্কৃতি এবং তরুণ প্রজন্মের নতুন অভিজ্ঞতার চাহিদা বিবেচনায় এ বাজারে বড় সম্ভাবনা দেখছে ব্র্যান্ডটি।
অনুষ্ঠানে তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, প্রতিটি ব্র্যান্ডের বিকাশে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে, যা নিজ দেশের সীমানার বাইরে তার ভবিষ্যতের নতুন পথ তৈরি করে।
বাংলাদেশে ক্যাফে অ্যামাজনের যাত্রা শুরু তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ মনে করে, অর্থবহ অংশীদারত্ব শুধু ব্যবসা সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে গ্রাহক, উদ্যোক্তা, স্থানীয় অর্থনীতি ও দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরি করা সম্ভব। সেই বিশ্বাস থেকেই ক্যাফে অ্যামাজনের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে।
আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, আমরা শুধু কফি পরিবেশন করতে আসিনি, আমরা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে এসেছি।
বাংলাদেশের তরুণ, উদ্যমী ও বিশ্বমুখী জনগোষ্ঠী এবং দ্রুত বিকাশমান ভোক্তা বাজার ক্যাফে অ্যামাজনের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান জানান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নেতৃত্বে তাদের লক্ষ্য শুধু কয়েকটি ক্যাফে চালু করা নয়; বরং বাংলাদেশজুড়ে একটি বড় ও সুসংগঠিত ক্যাফে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং সারা দেশে ৫০ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য রয়েছে।

পিটিটি অয়েলকে সহযোগিতা ও আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের দূতাবাসের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্ত সহকর্মী, অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
গ্রাহকদের উদ্দেশে আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, ক্যাফে অ্যামাজনকে শুধু কফি পান করার জায়গা হিসেবে নয়, বরং মানুষের মিলন, ভাবনার আদান-প্রদান ও স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরির একটি প্রাণবন্ত স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা।
ক্যাফে অ্যামাজন দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সেতু উল্লেখ করে ঢাকায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিফর্ন চিরাছাওয়াদি বলেন, বাংলাদেশে প্রথম ক্যাফে অ্যামাজনের উদ্বোধন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আনন্দের ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
তিনি বলেন, ক্যাফে অ্যামাজন থাইল্যান্ডের অন্যতম পরিচিত ব্র্যান্ড। ‘প্রকৃতির স্বাদ’ দর্শনকে সামনে রেখে ব্র্যান্ডটি কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবসার প্রতিও তাদের গুরুত্ব রয়েছে। কফি চাষিদের সহায়তা থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা ব্র্যান্ডটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে ক্যাফে অ্যামাজনের যাত্রা শুধু একটি নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বিষয় নয়। এটি থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও একটি অর্থবহ সেতু তৈরি করছে। বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং সফল থাই ব্র্যান্ডের কার্যক্রম দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ আগামী দিনে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই ব্যবসায়িক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।
পিটিটিটি ওআর ও ক্যাফে অ্যামাজন ইন্টারন্যাশনালের লাইফস্টাইল বিজনেসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রাইপিট প্রেমনানি বলেন, বাংলাদেশে ক্যাফে অ্যামাজনের উদ্বোধন শুধু একটি নতুন কফিশপ চালুর ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের নতুন সূচনা।
তিনি জানান, বাংলাদেশের মতো সম্ভাবনাময় ও দ্রুত বিকাশমান বাজারে ক্যাফে অ্যামাজন নিয়ে আসতে বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তারা গর্বিত। ক্যাফে অ্যামাজনকে তারা শুধু একটি পানীয়ের ব্র্যান্ড হিসেবে দেখেন না। কফি মানুষকে একত্র করে, সম্পর্ক তৈরি করে এবং সুন্দর মুহূর্তের সৃষ্টি করে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্যাফে অ্যামাজন এমন একটি জায়গা হয়ে উঠবে, যেখানে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ক্যাফে অ্যামাজন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড কমার্স ডেভেলপমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট থিতি সুওয়ানসাক, ক্যাফে অ্যামাজন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট উইলাই বুনচারোয়েনচাই, অয়েল রিটেইল স্ট্র্যাটেজিক মার্কেটিং ডিভিশনের ম্যানেজার পিথারা কাসেমসুভান, ক্যাফে অ্যামাজন ইন্টারন্যাশনাল সেলস অ্যান্ড স্টোর ম্যানেজমেন্টের এরিয়া ম্যানেজার উইথিত মানাকাসেথার্ন, ক্যাফে অ্যামাজন ইন্টারন্যাশনাল সেলস অ্যান্ড স্টোর ম্যানেজমেন্টের মার্কেটিং অফিসার ক্রিস্ট রানগ্রুয়াংসাক, বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন শেখ এহসান রেজা (অব.), বসুন্ধরা গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার জিয়াউল হক সিকদার এবং বসুন্ধরা গ্রুপের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
এছাড়াও থাইল্যান্ডের দূতাবাসের প্রতিনিধি, থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ও পেট্রলিয়াম কম্পানি পিটিটি সিয়ামের শীর্ষ কর্মকর্তা, বসুন্ধরা গ্রুপের উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় দুই দেশের পতাকা ও ব্র্যান্ডের প্রতীক সামনে রেখে অংশীদারত্ব ও বন্ধুত্ব উদ্যাপন করা হয়। সম্মানিত অতিথিদের বক্তব্য শেষে ফিতা কাটার মধ্য দিয়ে এ ফ্ল্যাগশিপ স্টোরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বিকেলে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের অ্যাট্রিয়ামে একটি পাবলিক উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে থাই সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, মুয়ে থাই প্রদর্শনী, গ্রাহক অ্যাক্টিভেশন, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ ও জেফার রহমানের মনোমুগ্ধকর লাইভ সঙ্গীত পরিবেশনা এবং ক্যাফে অ্যামাজনের অত্যন্ত প্রিয় মাসকট ‘জোনজোন’র উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শনার্থীদের থাই সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার এক চমৎকার অভিজ্ঞতা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের বিশিষ্ট অতিথি, যার মধ্যে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, ব্যবসায়ী নেতা এবং বসুন্ধরা গ্রুপ ও পিটিটি ওআর-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন।
ক্যাফে অ্যামাজন
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যাফে অ্যামাজন পিটিটি অয়েল অ্যান্ড রিটেইল বিজনেস পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (পিটিটি ওআর) পরিচালিত থাইল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় কফি চেইন। বর্তমানে দেশটিতে ব্র্যান্ডটির ৪ হাজার ৭০০টিরও বেশি ক্যাফে রয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮টি দেশে ক্যাফে অ্যামাজনের ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক আউটলেট রয়েছে।
‘টেস্ট অব নেচার’ বা ‘প্রকৃতির স্বাদ’ দর্শনে অনুপ্রাণিত ক্যাফে অ্যামাজন প্রিমিয়াম কফি, খাঁটি থাই পানীয়, প্রকৃতি-অনুপ্রাণিত ক্যাফে পরিবেশ এবং মানসম্মত গ্রাহকসেবার জন্য পরিচিত। ব্র্যান্ডটি এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল কফি চেইনগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর বিস্তৃত রিটেইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতি বছর লাখ লাখ গ্রাহককে সেবা দিয়ে আসছে ক্যাফে অ্যামাজন।
SOURCE : Banglanews24প্রয়াত ও অসুস্থ ৪ সাংবাদিককে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল এবিজি ফাউন্ডেশন
ABG Foundation Provides Tk 20 Lakh Financial Assistance to 4 Deceased and Ill Journalists
নদী ভাঙনকবলিত অসহায়দের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন
Anvir Bashundhara Group Foundation Stands by River Erosion Victims
বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে এবিজি ও ডিএনসিসির পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস
DNCC Eyes 'Bashundhara Residential Area' as Model for Building a Liveable Dhaka
Bangladesh Could Become Semiconductor Hub by 2050
নদীর বালু থেকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা
Anvir Bashundhara Group Foundation Brings Smiles to Orphans’ Faces
এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ