বন্যার্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরায় বসবাসরত ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে এই বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী।
কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকায় আপাতত শুকনা খাবারসহ আরো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ২৫ হাজার প্যাকেট ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে গতকাল শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় এক আলোচনাসভা হয়।
এতে বসুন্ধরায় অবস্থানরত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা গ্রুপ তাঁদের পাশে থাকায় ধন্যবাদ জানান।
গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলার লাখ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন বসুন্ধরায় বসবাসরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বন্যার্তদের পাশে থাকার জন্য বসুন্ধরার কাছে সহায়তা চান শিক্ষার্থীরা।
তাঁদের আবেদনে খুব দ্রুত সাড়া দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ।
আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ম্যানজমেন্ট অ্যান্ড এইচআর বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শিবলি আহমেদ খান ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এইচআর বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রফেসর ডা. মোহাম্মাদ আলী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পকেটের চিফ বিজনেস অফিসার শাহেদ মোহাম্মাদ, নিউজটোয়েন্টিফোরের জিএম অ্যান্ড হেড অব মার্কেটিং ইয়াসিন পাভেল।
জানা যায়, টোস্ট বিস্কুট, ওর স্যালাইন, চিড়া, গুড়, মুড়ি, পানির দুই হাজার প্যাকেট নিয়ে আজ শনিবার ভোরে রওনা হবে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দল।
এর আগে গতকাল দুপুরে শিক্ষার্থীদের ছয়টি গ্রুপ করা হয়, যারা কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীসহ বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ দিতে যাবে। এ ছাড়া আলাদা আলাদা আরো গ্রুপ করা হয়, যারা ঢাকায় ত্রাণের পণ্যগুলো প্যাকেট করবে।
প্রফেসর শিবলি আহমেদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আপাতত শুকনা খাবারসহ আরো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ২৫ হাজার প্যাকেট ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ১২টি নৌকা ও স্পিডবোটের ব্যবস্থাও করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।’
প্রফেসর ডা. মোহাম্মাদ আলী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, বন্যার্তদের সহযোগিতায় পিছপা হবে না বসুন্ধরা গ্রুপ।
বসুন্ধরার শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় সাধারণ মানুষের হাতে ত্রাণ পৌঁছাবেন। এ ছাড়া বন্যা-পরবর্তী সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে বসুন্ধরা গ্রুপ।’
গতকাল সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আইসিসিবির ১ নম্বর হলে গিয়ে দেখা যায়, বসুন্ধরায় অবস্থিত বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা পুরোদমে কাজ করছেন। কেউ গুড় প্যাকেট করছেন তো কেউ চিড়া। আর কেউ ধরে আছেন বস্তার মুখ, যেখানে সব আইটেম এক বস্তায় পুরে নেওয়া হচ্ছে আরেক পাশে। ট্রলিতে করে নিয়ে সেখানে বস্তার মুখ বেঁধে রাখা হচ্ছে সারিতে।
শিক্ষার্থীরা বলছিলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন কাজে কোনো ক্লান্তি আসে না। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান সজল বলেন, ‘আমরা দুপুরে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় সবাই মিলে মিটিং করেছি। পরে কয়েকটি গ্রুপ বানানো হয়। ভলান্টিয়ার গ্রুপগুলো কেউ ত্রাণ বিতরণে যাবে, কেউ সব কিছুর যোগাযোগ মেইনটেইন করবে, আর বাকিরা ঢাকায় প্যাকেজিংয়ের কাজ করবে।’
কথা হয় ইনডিপেনডেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখানে কাজ করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। বন্যার্তদের কাছে যেতে না পারলেও প্যাকেজিং করতে পেরে নিজেকে কিছুটা সান্ত্বনা দিতে পারছি। আমি বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে কাজ করছি। কিন্তু বিশ্বাস করেন, একটুও ক্লান্তি লাগছে না। মানুষের বিপদে পাশে থাকার সৌভাগ্য সবার হয় না।’
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আরেক শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে এখন যে বন্যা পরিস্থিতি চলছে, এমন সময় ঘরে বসে থাকা যায় না। মানুষের বিপদের এমন সময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তার সঙ্গে আমরা শিক্ষার্থীরা যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা আলাদা আলাদা পণ্য এক বস্তার মধ্যে নিয়ে একটি প্যাকেজ করছি। আমাদের কয়েকটি গ্রুপ এখানে প্যাকেজিং করবে। অন্য গ্রুপগুলো ভাগ ভাগ হয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে চলে যাবে। এভাবে এই বন্যা পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। ভবিষ্যতেও যদি এমন কোনো দুর্যোগ আসে, তবে বসুন্ধরার সহায়তায় আমরা সবার পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।’
SOURCE : কালের কণ্ঠপ্রয়াত ও অসুস্থ ৪ সাংবাদিককে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল এবিজি ফাউন্ডেশন
ABG Foundation Provides Tk 20 Lakh Financial Assistance to 4 Deceased and Ill Journalists
নদী ভাঙনকবলিত অসহায়দের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন
Anvir Bashundhara Group Foundation Stands by River Erosion Victims
বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে এবিজি ও ডিএনসিসির পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস
DNCC Eyes 'Bashundhara Residential Area' as Model for Building a Liveable Dhaka
Bangladesh Could Become Semiconductor Hub by 2050
নদীর বালু থেকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা
Anvir Bashundhara Group Foundation Brings Smiles to Orphans’ Faces
এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ