রাজধানীর জামিয়া মোহাম্মাদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বসবাসরত প্রায় আড়াইশ শিশুর কাছে পরিবার থেকে দূরে থাকা জীবন অনেকটাই নিঃসঙ্গ। কয়েকটি বাক্স, একটি বিছানা ও ছোট্ট একটি ট্রাংকই অনেকের নিত্যসঙ্গী। ছুটির দিনেও পরিবারের সান্নিধ্য ও স্বজনের ভালোবাসার অভাব তাদের শৈশবে তৈরি করে এক ধরনের শূন্যতা।
এই শিশুদের জীবনে ভালোবাসা ও আনন্দের পরশ ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত পাশে দাঁড়াচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় শিশুদের মাঝে বিশেষ খাবারের প্যাকেট বিতরণ ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ শুধু শিশুদের ক্ষুধা নিবারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের প্রতি সমাজের দায়িত্ব, সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তাও তুলে ধরছে।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানায়, সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার তাদের কাছে কিছুটা আলাদা। জুমার দিন এলেই তারা বিশেষ খাবারের অপেক্ষায় থাকে। খাবার হাতে পাওয়ার পর তাদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির অনুভূতি দেখা যায়।
এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক এতিম শিশু দীর্ঘদিন পর ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সবাই এতে আনন্দিত। সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি যেন ভবিষ্যতেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের পাশে থাকেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল লতিফ ফারুকী এবিজি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের খাবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, এমন মানবিক উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি করে যে সমাজে এখনো তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো সহমর্মী মানুষ রয়েছেন। এতিম শিশুদের মুখে যে আনন্দের হাসি ফুটেছে, তা আরও বিস্তৃত হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা প্রচারের প্রত্যাশা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে নীরবে মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন সায়েম সোবহান আনভীর। তার উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা প্রশংসনীয়।
এবিজি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ গাজী বাদল বলেন, “এবিজি ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক ও কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতি সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় আজও রাজধানীর চারটি মাদ্রাসায় এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসম্মত খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত খাবার বিতরণ করা হয়। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে প্রতি শুক্রবার অন্তত ১ হাজার ৫০০ অসহায় মানুষ ও ৫০০ এতিম শিশুর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসে সাহরি ও ইফতার বিতরণ, কোরবানির ঈদে মাংস বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান এবং শিক্ষা সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবিজি ফাউন্ডেশন।
ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন সায়েম সোবহান আনভীর। নিজের বিভিন্ন বিশেষ দিনেও সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ধারাবাহিকতা রয়েছে তার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তি উদ্যোগ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে রূপ নেওয়া এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। আর এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখের হাসি।
SOURCE : The Business Dailyপ্রয়াত ও অসুস্থ ৪ সাংবাদিককে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল এবিজি ফাউন্ডেশন
ABG Foundation Provides Tk 20 Lakh Financial Assistance to 4 Deceased and Ill Journalists
নদী ভাঙনকবলিত অসহায়দের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন
Anvir Bashundhara Group Foundation Stands by River Erosion Victims
বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে এবিজি ও ডিএনসিসির পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস
DNCC Eyes 'Bashundhara Residential Area' as Model for Building a Liveable Dhaka
Bangladesh Could Become Semiconductor Hub by 2050
নদীর বালু থেকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা
Anvir Bashundhara Group Foundation Brings Smiles to Orphans’ Faces
এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ