দিনের কোলাহল শেষে নগরীতে যখন রাতের নিস্তব্ধতা নামে ব্যস্ত শহর তখন আশ্রয় খোঁজে ঘুমের প্রশান্তিতে। কিন্তু ঠিক এই সময়ও কিছু মানুষের রাত কাটে আগামীকালের একমুঠো খাবারের অনিশ্চয়তায়।
খোলা আকাশ, কংক্রিটের ফুটপাত কিংবা জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে রাত পার করায় ছিন্নমূল মানুষগুলোর জীবন আটকে আছে বেঁচে থাকার এক অনুচ্চারিত সংগ্রামে। যেখানে স্বপ্নের আগেই আসে ক্ষুধা আর প্রয়োজনের হিসাব। তবে এই অসহায় মানুষগুলোর মলিন মুখে হাসি ফোটাতে রাতের অন্ধকার মুছে শুরু হয়েছে এক পবিত্র কর্মযজ্ঞ।
বিশাল সব চুলায় জ্বলে উঠছে দাউদাউ আগুন।
কয়েক হাজার মানুষের খাবার তৈরির নিবিড় প্রস্তুতি চলে রাত থেকে একেবারে ভোর পর্যন্ত। যেখানে আলো ছড়ায় মানবতার প্রদীপ। বিরামহীন হাতে চলে ধারালো ছুরি আর বিশাল আকারের খুন্তি-হাতার একটানা ছন্দ আর জ্বলন্ত চুলার গনগনে আঁচে টকবক করে ফুটতে থাকে বিশাল সব পাত্র। তেল নুন মসলার ঘ্রাণে ভরে ওঠে আকাশ।
কারো কোনো ক্লান্তি নেই, আছে শুধু প্রার্থনার মতো এক ঐকান্তিক নিবেদন যেন আহারের প্রতিটি দানায় মসলা নয়, মিশছে এক অদেখা ভালোবাসা। এ যেন শুধু খাবার তৈরি নয়, হাজারো মানুষের জীবনযুদ্ধের ক্লান্তি ভোলানোর মহৌষধ তৈরির এক পবিত্র পরিবেশনা। ভোরের স্নিগ্ধ আলো ফোটার পর রান্নার পাট চুকিয়ে শুরু হয় পরিচ্ছন্ন প্যাকেজিংয়ের কাজ। পরম যত্নে আর সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিটি প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়। এই প্যাকেটগুলোতে শুধু খাবারই মোড়ানো থাকে না।
মোড়ানো থাকে তীব্র ক্ষুধার মাঝে একচিলতে স্বস্তির প্রতিশ্রুতি।
এরপর সকালের উজ্জ্বল আলোতে পরম সাবধানে খাবারের এই প্যাকেটগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয় এবিজি স্পোর্টস গ্রাউন্ডের নির্ধারিত স্থানে। সারি সারি প্যাকেটগুলো যেন একেকটি ভালোবাসার সওগাত যা ক্ষুধার্থদের মুখে জগৎ ভুলানো হাসি ফোটাতে অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। পবিত্র জুমা পড়ে মানুষ যখন বের হয় মসজিদ থেকে, তখন শুরু হয় বিতরণ। দুস্থ-নিঃস্ব পথ-ঘাটের বাসিন্দাদের হাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় গরম খাবার। কেউ জিজ্ঞেস করে না, তুমি কে বা কোথা থেকে এলে? এখানে শুধু এক হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যেন আকাশ নিজেই নামিয়ে দেয় অন্যের ঝুলি। নিশ্চয়ই মানুষগুলো তুষ্টির হাসির পেছনে যিনি কাজ করছেন তিনি আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর।
সম্পূর্ণ নিভৃতে শুধু মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা আর ঐশ্বরিক অনুকম্পা থেকেই এই মানবিক আয়োজন পরিচালনা করে আসছেন তিনি। তার ধর্ম ক্ষুধার্তের পাতে খাবার তুলে দেওয়া। ক্লান্তমুখে প্রশান্তির হাসি ফোটানো।
খাবার পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এক বৃদ্ধ বলেন, ‘যার উছিলায় আমাগো খাবারটা দিছে আল্লাহ যেন তারে ভালো রাখেন।’
অপর আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের গরিবের খাবারটা দেওয়ার তৌফিক আল্লাহ তার দিক আর আল্লাহ তার সুস্থ রাখুক, ভালো রাখুক—এই কামনাই করি।’
যাদের পেটের ক্ষুধার জ্বালা এই আহারে জুড়ায়, তারা হয়তো নেপথ্যের এই কারিগরকে চেনেনও না; কিন্তু তৃপ্ত মানুষের অন্তরের গভীর দোয়ায় এই নিঃস্বার্থ হৃদয় আর মহৎ উদ্যোগ বেঁচে থাকবে অনন্তকাল আর্ত মানবতার সেবায় আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ।
SOURCE : কালের কণ্ঠHospital for Covid-19 Patients at Bashundhara’s ICCB to Open Soon
মীরসরাই এবং কেরানীগঞ্জে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলো বসুন্ধরা গ্রুপ
বসুন্ধরা গ্রুপ কাপ গলফ টুর্নামেন্ট ২০১৩ গলফারদের উৎসব
Dazzling Finish of Bashundhara Cup Golf Tournament 2013
Bashundhara Group Exporting Tissue to 16 Countries
Bashundhara Group Chairman Stands by Ailing Girl
Bashundhara Group Chairman Ahmed Akbar Sobhan Stands by Sick Tasmia
India Willing Partner in Bangladesh Development
Bashundhara Group Chairman Stands by Ailing Boy Siraj
Ceremony of Bashundhara Cup Golf